Arabic Arabic Bengali Bengali English English
পবিত্র “ঈদ-উল-আযহা” উৎযাপন সারাদেশে স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত-সংক্রমন বৃদ্ধির আশংকা-গণ টেলিভিশন
পবিত্র “ঈদ-উল-আযহা” উৎযাপন সারাদেশে স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত-সংক্রমন বৃদ্ধির আশংকা-গণ টেলিভিশন

পবিত্র “ঈদ-উল-আযহা” উৎযাপন সারাদেশে স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত-সংক্রমন বৃদ্ধির আশংকা-গণ টেলিভিশন

আমিনুল ইসলাম সেলিমঃ- (বিশেষ প্রতিনিধি)…

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে পালিত হলো মুসলিম উম্মাহ’র দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র “ঈদ-উল-আযহা” ।

প্রানঘাতী “করোনা মহামারী”র অন্যতম কঠিন রুপ(ইনৃডিয়ান ভেরিয়েন্ট) যখন পুরো বাংলাদেশ’কে বেসামাল করে দিয়েছে পাল্লা দিয়ে,
প্রতিনিয়ত তৈরী হচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড…
ঠিক সেই মুহুর্তে …

ত্যাগ ও ধৈর্যের অনন্য মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে ঈদ-উল-ফিতরের পর মুসলমানদের অন্যতম পৃরধান ধর্মীয় উৎসব/পবিত্র “ঈদ-উল-আযহার” নামাজ আদায় এবং সেইসাথে ইসলামের সুমহান ইতিহাস-সংবলিত
ও মহান আল্লাহ তা’আলার সান্নিধ্য প্রাপ্তির জন্য….
তারই নির্দেশানুযায়ী পশু কুরবানীর মাধ্যমে দিনটিকে উৎযাপন করা হয় সমগ্র মুসলিম বিশ্বে।

মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতার দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও এর গুরুত্ব অপরিসীম এবং ধর্মীয় অনুভুতির জায়গায় সংবেদনশীল।
বাঙ্গালী জাতীর ইতিহাসে “করোনা মহামারীর” মত এমন ভয়ানক প্রানঘাতী অদৃশ্য একটি জীবানুর সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হওয়ার মূহুর্তে পবিত্র এই উৎসব পূর্বে কখনো এসেছে বলে মনে হয় না।
এককথায় বললে “জাতীর চরম ক্রান্তিকালে”..

সরকার ঘোষিত লকডাউন সাময়িক শিথীল এবং প্রতিনিয়ত অদৃশ্য ভাইরাসটির ছোঁবলে মৃত্যুযাত্রার ‘মিছিলে নতুন নতুন নাম যুক্ত হওয়ার অজানা আতঙ্ককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বাভাবিক এবং সর্বস্তরের মুসলমানদের অসচেতন উপস্থিতি ছিলো স্বাভাবিক সময়ের মত নির্ভার।”

যদিও সরকার থেকে উৎসবের এসময় বাড়ী ফেরা,ঈদ উৎযাপন,পশু কুরবানী ও অন্যান্য আরো কিছু জায়গায় সুস্পষ্ট সচেতনতা তৈরীর চেষ্টা করা হয়েছে,কিন্তু মাঠ-পর্যায়ে মানা হয়নি তার ছিটেফোঁটাও।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবনতা খুব একটা লক্ষ করা যায় নি সারাদেশের বেশীরভাগ সাধারন জনগনের মাঝে।

জামাতের সহিত”ঈদ-উল-আযহার” নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় নি সামাজিক দূরত্বের নুন্যতম বালাই।
মাস্ক ব্যবহারে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায়নি বেশিরভাগ নাগরিকের মাঝে।
অনেকেই আবার মাস্ক ব্যবহার করলেও “ব্যবহৃত মাস্ক পকেটে নাহয় গলায় ঝুলিয়ে জামাত এবং উৎযাপনের অন্যান্য অংশে অংশ নেন।

কিছু কিছু জায়গায় কয়েকটি “সামাজিক সংগঠন ” মাস্ক বিতরন” সহ বিভিন্ন ভাবে জন-সচেতনতা তৈরীর চেষ্টা করলেও অসচেতনতা’র সর্বাত্মক প্রতিফলন-ই ছিলো দৃশ্যত বাস্তবতা।

বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী “করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট” যেভাবে দ্রুত তার প্রভাব বিস্তার এবং সংক্রমনিত করে মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙ্গছে,,,,
তাতে করে চলমান ঈদ-উল-আযহা’কে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা প্রথম দিনের ন্যায় অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনে সারাদেশে সংক্রমন বেড়ে যাবে কয়েকগুন।
আর যদি আশংকা বাস্তবে রুপ নেয় তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা এক প্রকার অসম্ভব।

ভিন্ন ভিন্ন পেশার কয়েকজন সচেতন নাগরিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে “বরাবরের মত অসচেতন হয়ে ঈদের দ্বিতীয় দিনকে ঘুরাঘুরির জন্য বেছে নিবে একটা বিশাল অংশ।
যার কিছুটা আন্দাজ করা গেছে ঈদ-উল-আযহার প্রথম দিনের শেষ বিকেলে।

এসময় তরুন এবং কিশোরদের মাঝে অস্থির প্রবনতা টি বেশী দেখা যায়।
আগামী দূ-তিনদিন একই অবস্থা বিরাজমান থাকলে
” কমিউনিটি ট্রান্সমিশন” রকেট গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।

“করোনা হটস্পট” হিসেবে চিহ্নিত মানিকগঞ্জ জেলাধীন সাটুরিয়া উপজেলা ও রয়েছে মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর সারিতে উপরের দিকে।
উৎসব পালনে যাবতীয় নিয়ম-কানুন-বিধি সমুহকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বভাবত স্বাভাবিক রুপে জনসাধারণের সার্বিক সবকিছু অবাক করার মত।
যা অনেকটা আত্নঘাতী রুপে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে।

সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রীতিমত বিস্ময় জাগানো “স্বাস্থ্যবিধি লংঘনের” প্রতিযোগীতা নজরে আসে।

জনদূর্ভোগ এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব উৎযাপনের কথা বার বার বলা হলেও লকডাউন শিথীল এবং একইসাথে সম্ভাব্য আগামী২৩-শে জুলাই হতে আসতে যাওয়া
“সম্পূর্ণ কঠোর লকডাউন” এর ঘোষনা আসায় উপজেলাধীন সকল শ্রেনী-পেশার জনগন পরিবার-পরিজন এবং এলাকাভিত্তিক সমাজের অংশ হয়ে ঈদের নামাজে জামাতে অংশ নেয় ও ইসলামী রীতি অনুযায়ী পশু কুরবানীর মাধ্যমে ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত করার চেষ্টা করেন।
বিশেষ গুরুত্ব ও বৈশ্বিক আতংক মাথায় রেখে।

২৩-শে জুলাই থেকে শিল্পকারখানা সহ সব প্রতিষ্ঠান ১৪-দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ঘোষনা’ই এহেন মারাত্নক স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান কারন বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

এমন অবস্থায় আশংকা করা হচ্ছে আগামী দূ-তিনদিন যদি জনগন সচেতনতা কে পাশ কাটিয়ে উৎযাপনের লক্ষে স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা না করে নিজেদের চলাচল এবং উৎযাপনের ধরন’কে সীমিত না রাখে তবে ভয়াবহতম পরিস্থিতি দেখতে হতে পারে দেশবাসীকো।
পরিনাম হবে এ যাবৎকালের হিসেবে সর্বাধিক ভয়ানক।

বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।মাঠ-পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ-বিভিন্ন পন্থায় সচেতনতা তৈরীর চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও খুব একটা কার্যকর কিংবা ফলপ্রসু হচ্ছে বলে দৃশ্যমান নয়।

শেষ বিকেলে ঘুরতে বের হওয়ার প্রবনতা যে হারে দেখা গিয়েছে তাতে করে আগামী দূ-তিনদিনের সম্ভাব্য মিলনমেলায় আক্রান্ত হয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

যা সামাল দেওয়ার মত সক্ষমতা সরকার বা স্বাস্থ্যবিভাগের বর্তমানে দাঁড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ রয়েছে এমনটা ভাবা “ভুল”।

ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় হসপিটালগুলোই ভারতীয় ভেরিয়েন্ট এ আক্রান্ত সংক্রমিত রোগীতে সয়লাব।
সেখানে ঈদ-উল-আযহাকে ঘিরে ট্রান্সমিশন মাত্রা ছাড়ালে ভারতের মত ভয়াবহ চিত্র সামনে চলে আসার সম্ভাবনা প্রবল।।
রাস্তায় পড়ে মৃত্যু হোক এটা কারোর ই কাম্য নয়।

এসকল দিক বিবেচনায় রেখে জনগনকে সচেতন হওয়ার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ঈদ-আনন্দ উৎযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d bloggers like this: